স্টাফ রিপোর্টার
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেছেন “শিশু-কিশোরদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতির চর্চা শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
 শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ শহরের সাংস্কৃতিক বিপ্লবী সংঘ-সাবিসের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
“শেকড় থাকুক সংস্কৃতিতে, ডানা মেলুক শিক্ষায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জে সাংস্কৃতিক বিপ্লবী সংঘ-সাবিসের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি গান, আবৃত্তি, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন প্রতিযোগীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, বিপিএম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সাবিসের সভাপতি মাহবুব জামাল, সাধারণ সম্পাদক শাহ আব্দুর রাজ্জাক টিপু এবং অনলাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এস এম সাইফুল্লাহ। এছাড়া সংগঠনের কর্মকর্তা, অভিভাবক, প্রতিযোগী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, “শিশু-কিশোরদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতির চর্চা শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
আয়োজকেরা জানান, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ, সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহ সৃষ্টি এবং শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তাঁদের মতে, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, নান্দনিকবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশে বইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি গান, আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ মানিকগঞ্জে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *