
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
কৃষি বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কৃষি ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃষি বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড সিজন–২ এর জেলা পর্ব।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার কেন্দ্রীয় আব্দুল গনি সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে এ জেলা রাউন্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
অলিম্পিয়াডটি তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো—
জুনিয়র: ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি
সেকেন্ডারি: নবম থেকে দশম শ্রেণি
হায়ার সেকেন্ডারি: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী
আয়োজকরা জানান, জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের জন্য থাকছে মোট ১০ লাখ টাকার গ্র্যান্ড ফান্ড, সার্টিফিকেট, পুরস্কার সামগ্রী, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের সুযোগ এবং শিক্ষা সফর। চ্যাম্পিয়নরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা, ল্যাপটপ ও শিক্ষা সফরসহ নানা উপহার। রানার্স-আপদের জন্যও রয়েছে নগদ অর্থ, স্মার্ট ডিভাইস, শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন পুরস্কার।
মানিকগঞ্জ জেলা অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডের সদস্য হাছিবুর রহমান হিমেল বলেন,
“কৃষিই বাংলাদেশের প্রাণশক্তি। এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে আমরা তরুণদের কৃষি সম্পর্কে নতুন চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। এটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আগামীর স্মার্ট কৃষি বিনির্মাণের একটি শক্ত ভিত্তি।”
আরেক সদস্য তাসমিয়া আফরিন হিমিকা বলেন,
“আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই কৃষির দিকনির্দেশনা তরুণদের হাতে তুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড তরুণদের মেধা বিকাশ, উন্নত পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করে আসছে। এ বছর ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলায়—ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জে—আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।
জেলা রাউন্ডের পরীক্ষা শেষে সাত দিনের মধ্যে ডিভিশন রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। এরপর এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে আয়োজন করা হবে গ্র্যান্ড ফিনালে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
